আসছে পিল আর পাকবে না মাথার চুল
অল্প বয়সেই আজকাল মানুষের চুল পেকে যাচ্ছে। এতে কম বয়সী কোন তরুণ, যুবক বা তরুণী, যুবতীকে বুড়ো বা বুড়িদের মতো দেখায়। এ নিয়ে তো অনেকের চিন্তার শেষ নেই। তবে এমন ব্যক্তিদের জন্য সুখবর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা আবিষ্কার করেছেন একটি বিস্ময়কর পিল, এ পিল খেলে চুল সাদা হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য সান। এতে বলা হয়েছে, যাদের চুল এখনও কালো আছে তারা যদি ওই পিলটি সেবন করেন তাহলে চিরদিনই তাদের চুল কালো থাকবে। এমন তাক লাগানো কথা বলেছেন কসমেটিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ল’রেল-এর বিশেষজ্ঞরা। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রতিদিন একবার এ পিল সেবন তেমন ব্যয়বহুল হবে না। পিলটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক। কারণ, এটি প্রস্তুত করা হয়েছে ফলের নির্যাস থেকে। ল’রেলের চুল বিষয়ক প্রধান ব্রুনো বার্নার্ড বলেছেন, তাদের চুল সাদা হয়ে যাওয়ার আগে থেকেই এ পিলটি ব্যবহার করতে হবে।
তবে ইচ্ছা হলেও আপনি এখনই এ পিলটি পাবেন না। এজন্য ল’রেল ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে। বলেছেন, ২০১৫ সাল নাগাদ তারা পিলটি বাজারজাত করবে। তারপরও এ পিলটি সেবন করার সঙ্গে সঙ্গেই চুল কালো হয়ে যাবে না। পিলটি সেবনের ১০ বছর বা তারও বেশি সময় নেবে কাজ করতে। কারণ, পাকা চুলকে কালো করতে পিলটির এমনই সময় লাগবে। গবেষকরা বলেছেন, ওই পিলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ফলের নির্যাস থেকে, যার রাসায়নিক নাম দেয়া হয়েছে টাইরোসিনাসে রিলেটেড প্রোটিন-২ বা টিআরপি-২।
মানবজমিন
অন্ধকে ‘দেখাবে’ চশমা
যাদের চোখের আলো নেই, অন্ধ; অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যের ফলে এ অবস্থা হয়েছে, তাদের জন্য সুখবর। বিশেষ এক ধরনের চশমা আবিষ্কার করছেন বিজ্ঞানীরা, যা পরলে কারো সাহায্য ছাড়াই তারা পথ ‘দেখে’ চলতে পারবে। অঙ্ফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অত্যাধুনিক এ চশমা তৈরি করছেন। ২০১৪ সালের মধ্যেই এ চশমা বাজারজাত করার উপযোগী হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বিশেষ এই চশমার বৈশিষ্ট্য যেমন আলাদা, তেমনি এর ব্যবহারের প্রক্রিয়ায়ও রয়েছে কিছু ভিন্নতা। যেমন-এর ফ্রেমের সামনের দিকে কাচের ওপরের দুই পাশে পিন আকৃতির দুটি গোপন ক্যামেরা বসানো থাকবে। এর গ্লাস এলইডি মডেলের, যাতে অনেক বিন্দু (ডট) থাকবে এবং এ চশমা পরিধানকারীর বুক পকেটে থাকবে মোবাইল ফোন আকৃতির ছোট একটি কম্পিউটার। গোপন ক্যামেরা ও কাচের ডটগুলো প্রতিফলিত ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থান সম্পর্কে পকেটের কম্পিউটারে বার্তা পাঠাবে। পরে কম্পিউটার মুহূর্তেই তা বিশ্লেষণ করে পরিধানকারীর কানে কানে বিষয়টি জানিয়ে দেবে।
গবেষকরা বলছেন, এ পদ্ধতির চশমা ব্যবহার করে অন্ধ ব্যক্তি একা একাই কেনাকাটা করতে যেতে পারবে। ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশনে চলাচল করতে পারবে। বাসের নম্বর ‘পড়তে’ পারবে এবং কম্পিউটার ব্যবহৃত মেশিনে টাকাও তুলতে পারবে।
এ চশমার ওজন বেশি হবে না। আর এর দামও হবে তুলনামূলক কম, প্রায় এক হাজার পাউন্ড। প্রথমে ব্রিটেনের সরকারি খাতায় যেসব অন্ধের নাম রয়েছে, তাদের এ চশমা সরবরাহ করা হবে। এতে সাফল্য পাওয়ার পর ২০১৪ সালের মধ্যে সর্বত্র বাজারজাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বার্ধক্যের কারণে যাঁদের চোখের আলো চলে গেছে, তাঁরা এ চশমা ব্যবহারে বেশি ফল পাবেন।
অঙ্ফোর্ডের ক্লিনিক্যাল নিউরোসায়েন্সের গবেষক ডা. স্টিফেন হাইকস বলেন, ‘আমরা আশা করছি, খুব শিগগির বিশেষ পদ্ধতির এ চশমা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পারব। প্রাথমিক গবেষণাগুলো হয়ে গেছে, এখন চশমার নকশা তৈরির কাজ চলছে।’ সূত্র : ডেইলি মেইল অনলাইন।
আসছে অনন্ত যৌবন লাভের মহৌষধ
মানুষ বুড়ো হলেই শরীরে বাসা বাঁধে হাজারো অসুখ-বিসুখ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কমে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ত্বক কুঁচকে যায়, দৃষ্টি শক্তি হয় ক্ষীণ, স্মৃতিও হয়ে যায় ঝাপসা। অন্তীম ক্ষণের এই নানামুখী ঝক্কি ঝামেলার ভয়ে সবাই চান চির তরুণ থাকতে। জীবনের সর্বস্ব দিয়েও কেউ কেউ তারুণ্য কিনতে চেয়েছেন এমন গল্প সবারই জানা। এতোদিন মানুষের চির তরুণ হয়ে বেঁচে থাকার এই স্বপ্ন অধরা থাকলেও সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটা সুখবর দিয়েছেন। তারা বলছেন, শিগগির বাজারে আসছে বৃদ্ধ বয়সে রোগ প্রতিরোধকারী ওষুধ। এ বিশেষ ওষুধ সেবনের ফলে কোনো রোগ বালাইয়ের স্পর্শ ছাড়াই বৃদ্ধ বয়সটা অতিক্রম করা যাবে যৌবনের মতোই স্বাচ্ছন্দে। শুধু তাই নয় জাদুমন্ত্রের মতো কতচকে যাওয়া ত্বক হয়ে যাবে টান টান মসৃন। শ্বেত শুভ্র চুলের জায়গায় হয়ে যাবে মাথাভর্তি ঘন কালো (যার যেমন)। আজীবন তরুণ থাকার এ মহৌষধটি বাজারে আসছে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই। শুক্রবার সেলটেনহাম বিজ্ঞান উৎসবে এমনটিই জানালেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক লিনডা পার্টিজ। উৎসবে বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনবিদ্যার বিশেষজ্ঞ লিনডা বলেন, গবেষকরা প্রাণীর স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ূর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জিন সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এ জিনের ওপর কাজ করে এমন ওষুধও বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেঞ্জামিন বোটনের গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। এতে একটি বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে ওই ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়। ওষুধ প্রয়োগের সময় ইঁদুরটির ত্বক, মস্তিষ্ক, নাড়িভতড়ি এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গে বয়সের ছাপ ছিল। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধটি প্রয়োগ কারার মাত্র দুই মাসের মধ্যে প্রাণীটি দেহে অনেক বেশি নতুন কোষ তৈরি করল যা সে প্রায় সম্পূর্ণরুপে হারিয়ে ফেলেছিল। এতে লক্ষ্যনীয়ভাবে ইঁদুরটি তরুণ অবস্থায় ফিরে আসে।
অন্য একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনসুলিন এবং কিছু হরমোনের ওপর প্রতিক্রিয়ার সম্পর্কগুলোই প্রাণীর স্বাস্থ্য ও বুড়িয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ ইনসুলিন ও হরমোনের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী উপদানগুলোর ওপর গবেষণার মাধ্যমে বয়স নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অধ্যাপক লিনডা এ ওষুধ গ্রহণের নিয়ম সম্পর্কে বলেন, ‘মধ্যবয়স থেকে প্রতিদিন একটি করে বড়ি গ্রহণ আমাদের বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা উপেক্ষা করলে ওষুধটি সেবনের পর থেকেই রোগ-শোকহীন উচ্ছ্বল তারুণ্যের মধ্যে বাকি জীবন অতিবাহিত করার গ্যারান্টি দেয়া যেতে পারে। কিছু আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানি ইতেমধ্যেই এ ধরনের ওষুধ বাজারজাত করার আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ওষুধ বাজারে আসলে তা একজন মানুষকে অসুস্থ হওয়ার ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করবে।
কাগজ-ফোন
আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোনসেট। বাজারে পাল্লা দিয়ে চলছে নিত্যনতুন ডিজাইনের মোবাইল ফোনসেট ছাড়ার হিড়িক। কোন কম্পানি কত আগে, কত কম দামে বেশি সুবিধাসম্পন্ন, কত হালকা মোবাইল ফোনসেট বাজারে ছাড়তে পারে; তা নিয়ে এক মহাযুদ্ধ। ক্রেতারাও ঝুঁকছে নতুন নতুন বাহারি পণ্যের দিকে। কিন্তু তাও যেন মনঃপূত হচ্ছিল না। তাই সবাইকে চমকে দেওয়ার মতো মোবাইল ফোনসেট তৈরি করল কানাডার একদল বিজ্ঞানী। তাদের উদ্ভাবিত এ মোবাইল ফোনসেট এতটাই পাতলা যে এর নাম দেওয়া হয়েছে কাগজ-ফোন (পেপার-ফোন)। ক্রেডিট কার্ডের মতো মানিব্যাগেও বহন করা যাবে এ ফোনসেট।
কল করা থেকে শুরু করে গান শোনা, বই পড়া ইত্যাদি যা যা একটি স্মার্টফোনে সম্ভব তার সবকিছুই করা যাবে এ কাগজ-ফোনে। এটি অনেকটা কম্পিউটারের মতোও কাজ করবে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হচ্ছে_এ ফোনসেট দিয়ে কথা না বললে এর কোনো চার্জই খরচ হবে না।
কাগজ-ফোনসেটের উদ্ভাবক কুইন্স ইউনিভার্সিটির হিউম্যান মিডিয়া ল্যাবের পরিচালক রোয়েল ভার্টিগাল বলেন, ‘এটাই ভবিষ্যৎ। আগামী পাঁচ বছরে সবকিছুই দেখতে অনেকটা এ রকম হয়ে যাবে। এ ফোন দেখতে এক টুকরো কাগজের মতো এবং সে রকমভাবেই এটি ব্যবহার করা যাবে। অর্থ্যাৎ লোকজন যখন এ ফোনে কিছু পড়বে তাদের মনেই হবে না হাতে কাঁচ বা ধাতবের কোনো টুকরো ধরা আছে। আপনি এটিকে ভাঁজ করে নিয়েও কথা বলতে পারবেন, আঙুলের সাহায্যে বইয়ের পাতা উল্টানোর মতো ব্যবহার করতে পারবেন, আবার কলম দিয়ে এতে লিখতেও পারবেন।’
গবেষকরা জানান, এ ফোনসেটের ডিসপ্লে তৈরি করা হয়েছে পাতলা ফিল্ম দিয়ে, যার আকার ৯ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। এ কারণে এটি বাজারে থাকা অন্য যেকোনো স্মার্টফোনের চেয়েও সহজে বহনযোগ্য। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন